বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, “সন্ত্রাস বা পেশিশক্তির মাধ্যমে জনগণের রায় তথা ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে প্রতিটি কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। ভোটারদের প্রতি আমাদের আহ্বান—আপনারা সবার আগে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রিকশা মার্কায় ভোট দেবেন।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের ৭ই মার্চ চত্বর রোডে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটারদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়ে মামুনুল হক বলেন, “ভোট দেওয়ার পর আপনারা বাড়ি গিয়ে ঘুমাবেন না। আপনাদের ভোটের ফসল যেন সন্ধ্যাবেলায় বিজয়ের বেশে ঘরে তুলে আনতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে। যদি কেউ ভোট চুরির দুরভিসন্ধি আঁকে, তবে সঙ্গে সঙ্গে জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাছে সংবাদ আছে, বিভিন্ন এলাকায় কারা মারা গেছেন কিংবা কারা বিদেশে আছেন, তাদের তালিকা করে জাল ভোট দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। প্রতি বছর শুনি মরা মানুষ এসে ভোট দিয়ে যায়। এবার মরা মানুষের নামে ব্যালট বাক্স ভরার চেষ্টা করলে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”
পথসভায় মামুনুল হক গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমকে আগামী ১২ তারিখ ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে তিনি গোপালগঞ্জ-২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের হাতে রিকশা প্রতীকের রেপ্লিকা তুলে দেন এবং দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক এম রেজাউল করিমের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় জেলা জামায়াত নেতা মাসুদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আজিজসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সকাল থেকেই দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ৭ই মার্চ চত্বর এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জনসভা ঘিরে জেলা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments