আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক জরিপে উঠে এসেছে রাজনৈতিক পছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র। জরিপ অনুযায়ী, আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে পছন্দ করছেন। পাশাপাশি ২৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতে ইসলামী, ৬.৫ শতাংশ এনসিপি এবং ১৩ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করছেন। এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন ২.৪ শতাংশ ভোটার।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস: এ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে এই জরিপ পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে দেশের ১৮০টি সংসদীয় আসনের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী।
জরিপে দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগ্রহী হলেও প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত নন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৩০.২ শতাংশ ভোটার প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে চান, আর ৩৩.২ শতাংশ ভোটার দল ও প্রার্থী—উভয় বিষয় বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটারদের কাছে ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ৬৭.৩ শতাংশ ভোটারের কাছে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় ইস্যু। এর পর রয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি (৬৩ শতাংশ), উন্নয়ন (৫৫.৪ শতাংশ) এবং নিরাপত্তা (৫১ শতাংশ)। ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।
প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক পছন্দেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তাদের ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে, ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে পছন্দ করছেন। এ ছাড়া ১৮.৬ শতাংশ তরুণ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।
নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রসঙ্গে জরিপে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা। বিএনপির ৪৯ শতাংশ এবং জামায়াতের ৭১ শতাংশ সমর্থক মনে করেন, ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে ভয়ভীতির ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি ব্যালট ছিনতাই ও সরকারি পক্ষপাতিত্ব নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments