Image description

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, বাংলাদেশের মানুষের রায় পাব। আমরা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হব। সে ক্ষেত্রে তো কাউকে বিরোধী দল হতে হবে। একটা ভারসাম্য রাষ্ট্র বা সরকার হতে গেলে বিরোধী দল থাকতে হবে। সবাই সরকারে এলে কেমন করে দেশ চলবে?’

জার্মান বার্তা সংস্থা ডয়চে ভেলেকে বুধবার সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তিনি।

এই সাক্ষাৎকারে ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ, তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা, পররাষ্ট্রনীতি, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ও দলের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

ডয়চে ভেলের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক আরাফাতুল ইসলাম শুরুতে প্রশ্ন করেন, নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তা-ই প্রত্যাশা।’

দেশে ফেরার পরে আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কোনটা? উত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘চ্যালেঞ্জটা সম্ভবত আমার ছিল। এত বছর পরে এসেছি, মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি, এটা হলো রাজনৈতিক দিক। অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পর আম্মা মারা গেলেন। উনি অসুস্থ ছিলেন। 

স্বাভাবিকভাবে এটাও কষ্টকর বিষয় আমাদের সবার জন্য। পরিবার যে একসঙ্গে বসে নিজেদের কষ্টটা ভাগ করে নেব, সেই সুযোগ-সময় হয়নি। কারণ, আমরা একদম নির্বাচনের ডামাডোলের ভেতরে। নির্বাচন এবং ব্যক্তিগত বিষয়– দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটাই আসলে আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।’

তরুণদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইশতেহারে আমরা তরুণ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নারীদের জন্য পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রেখেছি। কারণ, সবাইকে নিয়ে দেশ গঠন করতে হবে।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী– জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, যে কোনো দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি হয়, যেটা আমার দেশের স্বার্থের সঙ্গে যাবে না, সে ক্ষেত্রে যে কারও সঙ্গে আমাদের এ রকম দূরত্ব হতে পারে।

চীনের জন্য আলাদা নীতি আছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পৃথিবীকে বিশ্বগ্রাম বলা হয়। আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। বিভিন্ন দেশে যাবে চাকরিসহ বিভিন্ন কারণে। এ দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো হবে।’

প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের অর্ধেক নারী। কিন্তু নারী প্রার্থীর সংখ্যা খুব কম। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। আমরা চাইছি শিক্ষার পাশাপাশি নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে। তাহলে সে তার যোগ্যতায় মনোনয়ন আদায় করে নেবে।

আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশ যে মত দিচ্ছেন, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করে সে টিকতে পারে না, ৫ আগস্ট এর উদাহরণ।’

দুর্নীতি দমনের কথা বললেও কয়েকজন ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি এবং ঋণ দুটো ভিন্ন জিনিস। দলের লাখো নেতাকর্মীর নামে বিগত সরকার মামলা করেছিল। নেতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি। তাদের বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কাজেই এ রকম একটি অবস্থার মধ্যে খেলাপি হওয়াটা স্বাভাবিক। দুর্নীতি এবং খেলাপি হওয়ার মধ্যে সম্পর্ক নেই।

গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারকে বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী কারও সঙ্গে অন্যায় হয়ে থাকলে তাঁর বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।