বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট। ভোটগ্রহণ শেষেও ফল প্রকাশ পর্যন্ত তাদের এই ভূমিকার প্রত্যাশা করছি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
জামায়াত আমির বলেন, যে চেতনার প্রতি সম্মান রেখে দেশে জুলাই নেমে এসেছিল। সেই চেতনার বিজয় হবে আজকের নির্বাচনে। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব আত্মদানের সম্মিলিত ফসল আজকের নির্বাচন।
তবে তিনি বলেন, মিরপুরের একটি কেন্দ্রে বিরোধী প্রার্থীর সমর্থকারা আমার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্র দখল করে নেয়া হয়েছে। এক জায়গায় আমাদের প্রার্থীর ওপরও চড়াও হয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে বলে আমরা মানতে পারবো না।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট গ্রহণে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে লাকসাম, ভোলার লালমোহন এবং ঢাকার কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং প্রিজাইডিং অফিসারের উপস্থিতিতে অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি কেন্দ্রেও যদি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কিছু জায়গায় প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই ব্যালটে সিল মারছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি, যা আমরা খতিয়ে দেখছি।
নোয়াখালীর হাতিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও পোলিং এজেন্ট নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু জায়গায় আমাদের কর্মীরা আক্রান্ত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। তবে বড় ধরনের কোনো ভায়োলেন্স এখন পর্যন্ত হয়নি। একই বুথে একাধিক পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিকে তিনি ‘স্থানান্তর বা শিফটিং’ সংক্রান্ত সাধারণ বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন এবং এগুলোকে 'সিস্টেমেটিক' কোনো সমস্যা নয় বরং 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' বলে মন্তব্য করেন।
সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোর থেকেই কেন্দ্রে আসতে থাকেন ভোটাররা। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে ভোট দেবেন ভোটাররা।
দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে।
এই নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন)।
এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৩২ জন।




Comments