ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফেরার এই মাহেন্দ্রক্ষণে মন্ত্রিসভার রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে দলটি। এতে দলের প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিক ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনে গতি আনতে একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ মন্ত্রিসভা উপহার দিতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে যারা সফল ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পরিচয় দিয়েছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতার ওপর পুনরায় আস্থা রাখা হচ্ছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ড. আব্দুল মঈন খানকে জাতীয় সংসদের স্পিকার, মির্জা আব্বাসকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
নতুন মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু চমক থাকছে। কারাবন্দি ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত রুহুল কবির রিজভীকে তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন একাধিক মিত্র নেতা। এদের মধ্যে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং ববি হাজ্জাজের নাম আলোচিত হচ্ছে। অর্থনীতি পুনর্গঠনে ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২-দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দারও আলোচনায় রয়েছেন।
ইতিমধ্যে নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও এনসিপি ৬টি এবং স্বতন্ত্ররা ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কেমন মন্ত্রিসভা হচ্ছে তা দেখতে দেশবাসীকে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। আমরা একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments