Image description

পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন ওরফে গাজী গিয়াসকে গণধোলাই দিয়েছে বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর শহরের বাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে কালাইয়া বন্দরে গিয়াসের বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজী গিয়াস বিগত ১৭ বছর দলের কোনো কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না এবং আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আসম ফিরোজের ভাই এ কে এম ফরিদ মোল্লার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা ও দখলবাজিতে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে তিনি ত্যাগী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে কোণঠাসা করে রাখেন।

বিএনপি নেতাদের দাবি, গিয়াসের মতো ‘চাঁদাবাজ’ নেতাকে নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করায় সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, যার ফলে সহিদুল আলম তালুকদারের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই পদবঞ্চিত ও বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা গিয়াসকে গণধোলাই দেয়।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কালাইয়া বন্দরে গিয়াসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ১০-১২টি মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। গিয়াসের বিরুদ্ধে দক্ষিণ অঞ্চলের বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র কালাইয়া বন্দরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, তরমুজ ক্ষেত দখল এবং পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘শুক্রবার জামায়াত ও আওয়ামী লীগের লোকজন আমার বাসায় হামলা চালিয়ে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। আর শনিবার পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী পলাশ তার লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাদের নেতা সহিদুল আলমকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় আমি প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।’

তবে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. পলাশ বলেন, ‘গিয়াস একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও লুটেরা। তার অপকর্মের কারণেই বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গণধোলাই দিয়েছে।’

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, গাজী গিয়াসের বাসায় হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে শনিবারের গণধোলাইয়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর