Image description

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কয়েকদিনব্যাপী নাটকীয় ঘটনাক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারির পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের একটি বিমানে তিনি ঢাকায় পৌঁছান।

ভারতে অবস্থানকালে তাকে কোনো শারীরিক নিগ্রহ করা না হলেও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের করা জেরার মুখে পড়তে হয়েছে এবং তার ভারতীয় ভিসা বাতিল করে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাসখানেক আগে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মাহদী হাসানকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সামনে দাঁড়িয়ে বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ‘জ্বালিয়ে দেওয়ার’ দাবি করতে দেখা যায়। এই উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের জেরে তাকে গত জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে তিনি মুক্তি পেলেও বিষয়টি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে ছিল।

পর্তুগালের ভিসা আবেদনের জন্য গত মঙ্গলবার মাহদী হাসান দিল্লির কনট প্লেসের একটি ভিএফএস (VFS) সেন্টারে যান। সেখানে এক ব্যক্তি তাকে চিনে ফেলেন এবং ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মাহদীর ওপর নজরদারি শুরু করেন এবং তার মোবাইল ফোনে অসংখ্য অজানা নম্বর থেকে ফোন আসতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাহদী দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার হোটেল ছেড়ে বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে আশ্রয় নেন। এর মধ্যেই তার ভারতীয় ভিসা বাতিল করা হয় এবং তাকে বুধবারের ঢাকা-গামী ফ্লাইটের টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বুধবার সকালে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিকিউরিটি চেকের সময় তাকে লাইন থেকে সরিয়ে নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট জেরা করেন বিভিন্ন এজেন্সির কর্মকর্তারা। 

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাহদীকে কোনো শারীরিক আঘাত করা হয়নি, তবে তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে—ভারতবিরোধী কথা বলা এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতা কোনো ব্যক্তিকে ভারতে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।

জেরা শেষে তাকে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে অবস্থানকালে মাহদী একটি সেলফি ভিডিও আপলোড করে নিজেকে হয়রানির শিকার বলে দাবি করেন।

একটি সূত্র দাবি করেছে, মাহদী হাসানের কাছে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ছিল। তবে বাংলাদেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী এই তথ্যকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পর মাহদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, "আমাকে বৈষম্যবিরোধী নেতা হিসেবে আটক করে প্রচণ্ড হ্যারাস (হয়রানি) করা হয়েছে। আমি লাইফ রিস্কে (প্রাণের ঝুঁকিতে) ছিলাম। একটি দেশের নাগরিককে যে নিরাপত্তা দেওয়া দরকার, তা আমাকে দেওয়া হয়নি।" 

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে নামার পর এখানেও তাকে এক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং পরে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর