Image description

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে যারা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশই বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। 

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘এনসিপির যাত্রা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ছিল মূলত মাঠের সাধারণ ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। আর গত এক দশকে সারা দেশে যে নেতৃত্ব সংগঠিত হয়েছিল, তাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এই দুই শক্তির মিলনমেলার নামই হলো এনসিপি। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অনেক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে, যাদের আমরা স্বাগত জানাই। তবে আন্দোলনের মূল নেতৃত্বের একটি বড় অংশ আমাদের সঙ্গে থাকায় এনসিপির ভিত্তি অনেক মজবুত।’

দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এনসিপি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের অবস্থান আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে ‘এনসিপির যাত্রা’ বইটিতে আমাদের সব অবস্থান ও রাজনৈতিক আদর্শ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’

দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে নেপালের মতো অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশেও তৈরি হতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে সাহিত্য, গান ও সংস্কৃতির পাশাপাশি নিরপেক্ষ গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন দলের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ‘মাত্র ৩০টি আসনে নির্বাচন করে প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে সারা দেশে তৃতীয় হওয়া এনসিপির জন্য এক বিশাল অর্জন। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ একটি বিকল্প ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির অপেক্ষায় ছিল।’

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে সংস্কারপন্থি ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এনসিপি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের ইতিহাস আমাদেরই লিখতে হবে।’

আদর্শ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘এনসিপির যাত্রা’ বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর