ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার এই সনদ বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর সিস্টেমস (আইএফইএস) বাংলাদেশ-এর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত এই সংসদকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর করতে হবে। তবে গত ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না। গত ১২ মার্চ আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেছেন, যা বর্তমানে বিশেষ কমিটিতে যাচাই-বাছাইাধীন। জামায়াতের দাবি, সরকার এই বিশেষ প্রক্রিয়ার আড়ালে গণভোট অধ্যাদেশটি বাতিলের পথে হাঁটছে।
ব্রিফিংয়ে গত বছরের রাজনৈতিক ঘটনাবলি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়। এর ফলে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরুতেই হোঁচট খায়। জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা শুরুতে প্রতিবাদ জানালেও পরে উভয় শপথ গ্রহণ করেন।
এমপি সাইফুল আলম খান মিলন সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের নেতৃত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দলকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে, কিন্তু বর্তমানে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আইএফইএস-এর সঙ্গে বৈঠকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর) পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার, শিশির মো. মনির এবং এমপি মাহবুবুল আলম সালেহী উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments