বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি এখন ‘মুনাফেকি’ আর ‘সুবিধাবাদের’ রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের রাজনীতি এ দেশের মানুষ আর সহ্য করবে না।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভোত্তর সমাবেশে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সরকারের প্রবর্তিত যেসব অধ্যাদেশ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সেগুলো বিএনপির খুব পছন্দ। কিন্তু যেসব প্রস্তাবনা জাতির কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে, সেগুলোই তাদের কাছে অপছন্দ।
তিনি বলেন, “তলে তলে এক কথা আর প্রকাশ্যে অন্য কথা বলাকেই মুনাফেকি বলা হয়। বিএনপির রাজনীতির দুটি বুনিয়াদ আজ জাতির সামনে স্পষ্ট—একটি মুনাফেকি আর অন্যটি সুবিধাবাদ।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে যদি গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন, তবে এ দেশের মানুষ রাজপথে আপনাদের মোকাবিলা করবে। ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকা যাবে না।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তানদের (তারেক রহমান প্রসঙ্গ) দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামুনুল হক বলেন, “জনতার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো বিশেষ কায়দায় নির্বাচন করার চেষ্টা করলে তার পরিণাম আপনাদেরই ভোগ করতে হবে। অতীতের রাজনৈতিক ভুলের খেসারত আমাদের ২৫ বছর ধরে দিতে হয়েছে; গুম, খুন ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। আমরা চাই আপনারা সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করুন এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন।”
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইলে গিয়ে শেষ হয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments