Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট কনসলিডেটেড পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির পর নির্ধারিত তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে এই শর্ত পূরণ হয়নি।’

শুনানিতে জানা যায়, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগদান করেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। ফলে আইনি শর্ত অনুযায়ী তিন বছরের বিরতি না থাকায় তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমার চাকরির ধরন এবং দশম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাংকের পদের ক্ষেত্রে এই আইনটি ভিন্নভাবে দেখা প্রয়োজন। আমি মনে করি আমার প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাই আমি কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

এদিকে, একই জোটের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে আবেদন জমা দেওয়ায় কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য এবার মোট ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে একজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। আপিল শুনানি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।

মানবকণ্ঠ/ডিআর