Image description

বিগত জাতীয় নির্বাচনকে কোনোমতেই জনগণের নির্বাচন বলা যায় না, বরং এটি ছিল একটি ‘চুক্তি নির্ভর’ ও ‘আসন ভাগাভাগির’ নির্বাচন। সরকারি ও বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে সংসদে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম।

শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতী ফয়জুল করীম বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে বলেন, "আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিরোধী দল সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেই বলে তারা বিরোধী দল নয়। মূলত আগে থেকেই ঠিক করা ছিল কে কয়টি আসন পাবে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামি আন্দোলনকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে। বর্তমানে রাজনীতিতে কোনো কিছু গোপন রাখার সুযোগ নেই, সব সত্য উন্মোচিত হবে।"

সংসদে বিরোধী দলের দ্বিমুখী অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বিরোধী দলের কেউ কেউ সংসদে কোরআনি শাসনের কথা বলেন। আমি বলব, আপনারা সংসদে শরিয়াহ বা কোরআন-সুন্নাহর পক্ষে বিল উত্থাপন করুন। যদি সেই আইন পাস না হয়, তবে আপনাদের সংসদ ত্যাগ করা উচিত। একদিকে কোরআনের আইন আর অন্যদিকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথা বলা—এমন দ্বিচারিতা চলতে পারে না।"

শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর অবিলম্বে ‘শ্রমিক কার্ড’ প্রবর্তনের দাবি জানান। তিনি বলেন, সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দিচ্ছে, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা নেই। এছাড়া তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতি দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।

মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার ইস্যু নিয়ে চলমান বিতর্ককে ‘হাস্যকর’ অভিহিত করে ফয়জুল করীম বলেন, "সংসদে এখন কে রাজাকার আর কে শিশু মুক্তিযোদ্ধা তা প্রমাণ করতেই সময় নষ্ট করা হচ্ছে। কার পরিবারে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তা স্পষ্টভাবে জাতির সামনে প্রকাশ করা উচিত।"

বক্তব্যের শেষে তিনি দলের আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "ইসলামি আন্দোলন ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করে না। ইসলামের প্রয়োজনে আমরা ক্ষমতা ত্যাগ করতে পারি, কিন্তু ক্ষমতার জন্য ইসলাম ত্যাগ করতে পারি না। দেশে ইসলামি হুকুমত কায়েম করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর