জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নেওয়ায় বর্তমান সরকার দ্রুত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার ও সংসদ গঠিত হলেও প্রথম অধিবেশনেই মানুষ আশাহত হয়েছে। সরকারের মন্ত্রীরা এখন জনরোষের মুখে পড়ছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান উঠছে।
শনিবার (২৩ মে) বরিশাল মহানগর জামায়াত আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রুকন শিক্ষা শিবিরের সমাপনী দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’-এর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই স্মারক অনুমোদনের পর সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনও জারি হয়। কিন্তু গণভোটে জনগণের বিপুল মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংবিধানের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা থাকায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের ঝুঁকিতে পড়ছে এবং জনগণ ন্যায্য সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজ পদদলিত হচ্ছে।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে ভঙ্গ করা হচ্ছে এবং দেশকে একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনেই সরকার ‘গণভোট সংক্রান্ত বিল’ সংসদে উত্থাপন ও পাস করবে।
জামায়াতে ইসলামী সহিংসতায় বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি এবং সরকারকে জনম্যান্ডেট অনুযায়ী পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে চাই। তবে জনরায় উপেক্ষা করা হলে জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”
বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মু. বাবর-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, আতাউর রহমান বাচ্চু ও এটিএম ফকরুদ্দিন খান রাজি।
মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আতিকুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর নায়েবে আমির মাহমুদ হোসাইন দুলাল, মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানসহ জেলা ও মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments