Image description

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করেছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট উত্তর প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলেও বিশ্বজুড়ে ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে এর সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান সংসদের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা একটি দায়িত্বশীল সংসদ দেখতে চাই, যেখানে গান-বাজনা নয় বরং জনগণের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। একটি স্থিতিশীল সংসদ গঠনের লক্ষ্যে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।”

সংস্কার পরিষদের শপথ এবং গণভোটের রায় নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। বিএনপি এই জনরায়কে অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করেছে। তারা সংবিধানে না থাকার দোহাই দিয়ে সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি, অথচ এই ড. ইউনূসের সরকারও তো সংবিধানে ছিল না, যাদের আয়োজিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি আজ ক্ষমতায়।”

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, অথচ বর্তমান সংসদে বিরোধী দল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাদের কথা বলার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “বড় বাজেট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়, তবে এটি বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা এবং দুর্নীতি রোধ করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি বন্ধ না হলে দেশের টাকা আবারও বিদেশে পাচার হবে।” তিনি আবারও অর্থবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর করার দাবি জানান।

জামায়াতের সংসদ সদস্যদের সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দলগত সিদ্ধান্তে তারা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নিলেও বসবাসের জন্য সাময়িকভাবে সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেছেন। এটি বিলাসিতা নয় বরং কাজের প্রয়োজনে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় সরকারের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাই স্মৃতি জাদুঘর এবং জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে কোনো কার্যকর দৃশ্যমান তৎপরতা চোখে পড়ছে না, যা দুঃখজনক।”

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতীয় স্বার্থে ১৯৯১ সালেও জামায়াত বিএনপিকে সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার জনরায় মেনে নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করবে, অন্যথায় দেশ আবারও সংকটে পড়তে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর