নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে বিএনপির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা, আর ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ফলে বর্তমানে দলটির তহবিলে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) জমা দেন।
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
বিএনপির তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে দলটির আয় ও ব্যয়—উভয়ই বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলটির আয় ছিল ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা এবং ব্যয় ছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। এর আগে ২০২৩ সালে বিএনপির আয় ছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা, আর ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। কোনো দল টানা তিন বছর এ হিসাব জমা না দিলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
সাধারণত সদস্যদের চাঁদা, ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ রাজনৈতিক দলগুলোর আয়ের প্রধান উৎস। অন্যদিকে, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি, কার্যালয় পরিচালনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, প্রকাশনা এবং নেতাকর্মীদের সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে দলগুলো ব্যয় দেখিয়ে থাকে।




Comments