জাতি আজ গভীর শোকে মুহ্যমান। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথিকৃৎ এবং আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি নিজে সৌভাগ্যবান যে, তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছি, সরাসরি কথা বলেছি এবং কাছ থেকে দেখেছি সেই অসাধারণ নারীকে, যিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজকে নতুন দিগন্ত দেখিয়েছেন। তাঁর চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের বা দলের ক্ষতি নয়, এটি পুরো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
আমার স্মৃতিতে বেগম জিয়া সবসময় এক দূরদর্শী, সাহসী এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত নেত্রী হিসেবে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠেন। প্রথম সাক্ষাৎ যখন হয়, তখন আমি আশিয়ান গ্রুপের কার্যক্রম ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। তিনি আমার কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনলেন। তাঁর চোখে ছিল অদম্য আত্মবিশ্বাস এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তা। তিনি বলেছিলেন, “দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছাড়া গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হবে না। ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব শুধু লাভ করা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া।” সেই কথাগুলো আজও আমার মনে গেঁথে আছে। তাঁর দূরদর্শিতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে আশিয়ান গ্রুপকে শুধু ব্যবসা নয়, দেশের কল্যাণে নিয়োজিত রাখতে।
বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সামরিক শাসন ও ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্ধকার যুগে তিনি আপসহীন লড়াই করেছেন। জেল, নির্যাতন, অসুস্থতা—কিছুই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাঁর সাহসী নেতৃত্বে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-অবকাঠামোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। তিনি ছিলেন একইসাথে শান্ত, স্নেহময়ী মা এবং কঠোর নেত্রী। কাছ থেকে দেখেছি, দলের নেতাকর্মীদের তিনি সন্তানের মতো স্নেহ করতেন, আবার দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় দিতেন না। তাঁর দেশপ্রেম ছিল অনুকরণীয়—যা আজকের প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
আরেকটি স্মৃতি আমার মনে গভীরভাবে রয়েছে। একবার দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেছিলেন, “ব্যবসায়ীরা দেশের মেরুদণ্ড। তাদের সততা ও দায়িত্ববোধ থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে।” তাঁর সেই কথা শুনে আমি আশিয়ান গ্রুপের প্রতিটি প্রকল্পে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। তিনি শুধু রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন একজন দূরদর্শী অর্থনীতিবিদের মতো। তাঁর আমলে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পায়ন—সবই প্রমাণ করে তাঁর অবদান।
বেগম জিয়া ছিলেন নারী জাগরণের প্রতীক। একজন গৃহিণী থেকে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে উঠে এসে তিনি দেখিয়েছেন, নারীরা কী করতে পারে। তাঁর সংগ্রাম দেখে লাখো নারী অনুপ্রাণিত হয়েছে। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন পুরো জাতির মা। অসুস্থতার মধ্যেও তিনি দেশের জন্য চিন্তা করতেন, নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতেন।
আজ তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর সংগ্রাম, তাঁর দেশপ্রেম আমাদের চিরকাল পথ দেখাবে। তাঁর দেখানো গণতন্ত্রের পথে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে আমরা এগিয়ে যাব। আশিয়ান গ্রুপের প্রতিটি কর্মী তাঁর অনুপ্রেরণায় দেশের জন্য কাজ করে যাবে।
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার—তারেক রহমান, আরাফাত রহমানের পরিবারসহ সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। তাঁর অসামান্য অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ আমাদের সকলকে অনুপ্রেরণা যোগাবে চিরকাল।
চেয়ারম্যান, আশিয়ান গ্রুপ




Comments