Image description

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা চার ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় সবুজ মিয়া, সাদ্দাম ও সালমান ফরাজি নামের তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যচর গ্রামের পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ভৈরব উপজেলার মধ্যচর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। শুক্রবার বিকেলে ঈদগাহ মাঠে মধ্যচর গ্রামের যুবকদের সঙ্গে ভাটিকৃষ্ণনগর গ্রামের যুবকদের সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলার সময় ভাটিকৃষ্ণনগর দলের পরপর দুটি গোল দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মাঠের মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় মাতব্বররা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক বসানো হয়। তবে বৈঠকের একপর্যায়ে মধ্যচর গ্রামের পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ চার ঘণ্টার সংঘর্ষের পর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৩ জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।