ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যখন ‘মুস্তাফিজ ইস্যু’ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ভারতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। রোববার (১১ জানুয়ারি) ভাদোদারায় শুরু হওয়া ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বিসিবি ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকতের ভারত সফর নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—একজন এলিট প্যানেলের আম্পায়ার যদি ভারতে নিরাপদ থাকতে পারেন, তবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা শঙ্কা কেন দেখা দিচ্ছে? ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি সামনে এনে বিসিসিআই উল্টো বিসিবিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে শরফুদ্দৌলা সৈকত ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওর্থের সঙ্গে ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে কাজ করছেন। মাঠের আম্পায়ার হিসেবে আছেন ভারতের কেএন আনান্থাপাদ্মানাভান। আইসিসির এলিট প্যানেলের সদস্য হিসেবে শরফুদ্দৌলার অভিজ্ঞতা বেশ দীর্ঘ। তিনি এখন পর্যন্ত ৩২টি টেস্ট, ১১৮টি ওয়ানডে এবং ৭৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এমনকি গত অ্যাশেজ সিরিজেও তিনি মূল আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
শরফুদ্দৌলা সৈকত চলমান বিপিএলেও নিয়মিত আম্পায়ারিং করছিলেন। গত বৃহস্পতিবারও তিনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আইসিসির জরুরি ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে তিনি ভারতে পৌঁছান। এই ত্বরিত যাত্রা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর ভারতে অবস্থান ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
বিসিবি এখন পর্যন্ত শরফুদ্দৌলার এই সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিসিসিআই এই পরিস্থিতিকে তাদের অনুকূলে ব্যবহার করে বিশ্বকাপের ভেন্যু ইস্যুতে বিসিবিকে চাপে রাখবে কি না, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments