Image description

চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় এক রাতে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অপর দুইজনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

খুনের শিকার ব্যক্তিরা হচ্ছেন- নগরীর বন্দর এলাকায় আজিয়ার রহমান (৩৫), ফটিকছড়িতে জামাল উদ্দিন (৩৮) ও হাটহাজারীতে মাহবুব আলম (৩৬)। শনিবার রাতে এসব খুনের ঘটনা ঘটে।

এক রাতে তিন খুনের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই খুন-খারাবি বাড়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পোর্ট কলোনি এলাকায় অজ্ঞাত কারণে দুর্বৃত্তরা আজিয়ার রহমানকে ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। পরে বন্দর থানা পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাত ২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজিয়ার রহমান বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার আলতি বুরুজবাড়িয়া এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার শাহনগর এলাকার আবদুল লতিফ টেন্ডলের বাড়ির সড়কের সামনে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন জামাল উদ্দিন। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলযোগে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। জামাল ঘটনাস্থলেই নিহত হন।  এ সময় নাছির নামে তার আরেক সহযোগী গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই যুবক জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

নিহত মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামের বশরত আলী মিস্ত্রীবাড়ির মৃত মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে।

এছাড়া একই গ্রামের বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ নাছির উদ্দিনকে (৩৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় মাহবুব আলম (৩৬) নামে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। হাটহাজারী পৌরসভার কলাবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহবুব আলম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমপাড়া এলাকার হাফেজ আবদুল খালেক বাড়ির মৃত আবদুল নবীর পুত্র।

পুলিশ জানায়, মাহবুব পেশায় একজন মাইক্রোবাস চালক ছিলেন। তবে পাশাপাশি তিনি ওই এলাকার আলাউল হল নামের একটি ভবনের দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ভোররাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত কলাবাগান এলাকায় গিয়ে মাহবুব আলমের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা মাহবুব আলমকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।