Image description

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই। দেশটির জনগণের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সে দেশের জনগণ—কোনো বিদেশি শক্তি বা দমনমূলক শাসনব্যবস্থা নয়।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মালালা লেখেন, ইরানের ভবিষ্যৎ গঠনে ইরানি নারী ও মেয়েদের নেতৃত্ব থাকতে হবে। তিনি বলেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভকে শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। মালালার ভাষায়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মেয়েদের মতোই ইরানি নারী ও মেয়েরাও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে চান।

এদিকে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। সহিংস দমন-পীড়নে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। এটিই প্রথমবার তেহরানের পক্ষ থেকে এত বড় প্রাণহানির সংখ্যা স্বীকার করা হলো।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসীদের’ ভূমিকা রয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি তিনি।

মূলত তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা। গত তিন বছরের মধ্যে এটিকে ইরানি সরকারের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক চাপ—বিশেষ করে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই