ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করার পর তাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পদক প্রদান করেছেন। এই ঘটনা এমন সময় ঘটলো মাত্র এক সপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে মার্কিন সেনাবাহিনী। খবর; দি গার্ডিয়ান
মাদুরোর "নিষ্ঠুর, কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের" বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য গত বছর নোবেল পুরষ্কার পাওয়া মাচাদো বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি "আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতিস্বরূপ" এটি গ্রহণ করেছেন।
কয়েক ঘন্টা পরে, ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন যে মাচাদো "আমার কাজের জন্য আমাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করেছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি দুর্দান্ত নিদর্শন।"
নিউ ইয়র্ক পোস্টের পরে প্রচারিত একটি ছবিতে মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে একটি বড় ফ্রেমে প্রদর্শিত উপহারটি দেখানো হয়েছে। পদকের নীচে সোনার ফ্রেমের ভিতরে একটি লেখা ছিল: "একটি স্বাধীন ভেনেজুয়েলা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের নীতিগত এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের স্বীকৃতিস্বরূপ ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার ব্যক্তিগত প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।"
আগের দিন নোবেল আয়োজকরা X-এ পোস্ট করেছিলেন: "একটি পদক মালিক পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি পরিবর্তন করতে পারে না।"
মাচাদো বলেন, ‘আমি মনে করি আজ আমাদের ভেনেজুয়েলাবাসীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।’ এটি ছিল ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে মাচাদোকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন; যিনি মাদুরোর সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
তবে ট্রাম্প বলেন, মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ছিল ‘একটি বড় সম্মান’, এবং তাকে ‘একজন অসাধারণ নারী, যিনি অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন’ বলে অভিহিত করেন।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর মাচাদো বাইরে গেটের সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে স্প্যানিশ ভাষায় বলেন—‘আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা করতে পারি।’
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে মাচাদো বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছি,’ এবং এটিকে ‘আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতি’ বলে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প প্রায়ই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছার কথা বলেন, গত বছর মাচাদোকে এই সম্মান দেওয়া হলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তবুও তিনি সেটি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
ভেনেজুয়েলার ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পরাজিত করার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিলেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে ৩ জানুয়ারি ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাচাদোর এক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে আটক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে পাশে সরিয়ে দেন।
মাদুরোর পতনের পর বিরোধী সমর্থকরা আশা করেছিলেন, ৫৮ বছর বয়সী রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ মাচাদোকেই ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন ট্রাম্প। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং ট্রাম্প সমর্থন দেন মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে, যিনি পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ভেনেজুয়েলার ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পরাজিত করার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিলেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে ৩ জানুয়ারি ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাচাদোর এক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে আটক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে পাশে সরিয়ে দেন।
মাদুরোর পতনের পর বিরোধী সমর্থকরা আশা করেছিলেন, ৫৮ বছর বয়সী রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ মাচাদোকেই ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন ট্রাম্প। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং ট্রাম্প সমর্থন দেন মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে, যিনি পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সমর্থন ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে একান্ত বৈঠকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন মাচাদো। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শান্তি ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে তিনি তার নরওয়েজিয়ান পদকটি ট্রাম্পকে “উপস্থাপন” করেছেন।
এর আগে মাচাদো ফক্স নিউজকে জানিয়েছিলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কারটি “ভাগ” করতে চান। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে নোবেল শান্তি পুরস্কারের আয়োজকরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এই পুরস্কার “ভাগ বা স্থানান্তরযোগ্য নয়” এবং এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী।
তবুও প্রতীকী এই পদক্ষেপে এগিয়ে যান মাচাদো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার আন্দোলনের নেতৃত্ব ধরে রাখার একটি শেষ চেষ্টা। বিশেষ করে মাদুরো এখন দৃশ্যপটের বাইরে এবং নিউ ইয়র্কে কারাবন্দী থাকায় ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নতুন মোড় নিচ্ছে।




Comments