রাষ্ট্র ও সরকারের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই গণভোট বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক। তিনি বলেন, “গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলই আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। দেশের পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই গণভোটে অংশ নিতে হবে।”
শুক্রবার বিকালে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন।
ফারুক ই আজম বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারে মূল কাজ ছিল তিনটি- গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে গণহত্যার বিচার শুরু করেছে, অনেকের সাজা হয়েছে। রাষ্ট্রকে আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় যাতে আর কেউ নিতে না পারে সেজন্য সকল দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের কিছু মৌলিক বিষয় নিয়েই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। আর নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমেই বর্তমান সরকার তার দায়িত্ব পূর্ণ করবে।”
যারা জীবনে প্রথম ভোট দেবেন তাদেরকে অনেক সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আপনাদের প্রথম ভোট হবে রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের জন্য, আপনার নিজের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য। গণভোটের পক্ষে আপনার সুচিন্তিত মতামতের ফলেই দেশের অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে।
“আমাদেরকে সচ্ছল, সাবলীল ও মানবিকবোধ সম্পন্ন নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। যে বাংলাদেশের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে, সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
এই সময় তিনি রাষ্ট্রের সার্বিক মালিকানা জনগণকে বুঝিয়ে দিতে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হয়, তবে কোনো সরকারই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সচেতনতার সঙ্গে ভালো প্রার্থী নির্বাচিত করতে হবে। আর ভালো প্রার্থী তৈরি হবে ভালো রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে। রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন ও সুসংহত করা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মো. আসলাম উদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এই সময় সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক রাকিব হাসান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আউয়ালসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




Comments