Image description

ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া একটি ছোট আকারের বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। ধারণা করা হচ্ছে, মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার মধ্যে সুলাওয়েসি দ্বীপের পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ওই বিমানে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার সকালে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। এর আগে শনিবার ইন্দোনেশিয়ার মূল দ্বীপ জাভার যোগজাকার্তা থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মাকাসারে যাওয়ার পথে বিমানটি রাডার থেকে উধাও হয়ে যায়।

মাকাসারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, রোববার সকালে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে থাকা উদ্ধারকারীরা মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ের ঢালে বনঘেরা এলাকায় বিমানের একটি জানালার মতো অংশ দেখতে পান। পরে স্থল উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে বিমানের মূল অংশ ও লেজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বড় ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ের উত্তর দিকের একটি খাড়া ঢালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। বিমানের প্রধান অংশগুলো শনাক্ত হওয়ায় অনুসন্ধান এলাকা অনেকটাই সীমিত করা সম্ভব হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল মূলত আরোহীদের খোঁজে মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে কেউ জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে।

বিমানটি ছিল একটি টার্বোপ্রপ এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের, যা পরিচালনা করছিল ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট। সর্বশেষ বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় দক্ষিণ সুলাওয়েসির পাহাড়ি জেলা মারোসের লিয়াং-লিয়াং এলাকায়। বিমানে আটজন ক্রু সদস্য এবং সামুদ্রিক বিষয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁরা আকাশপথে সামুদ্রিক নজরদারি মিশনে অংশ নিচ্ছিলেন।

দক্ষিণ সুলাওয়েসির হাসানউদ্দিন সামরিক অঞ্চলের কমান্ডার মেজর জেনারেল বাঙ্গুন নাওয়োকো জানান, প্রবল বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও স্থল ও আকাশপথে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় দ্বীপগুলোর মধ্যে যোগাযোগের জন্য বিমান ও ফেরির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বিমান, বাস ও ফেরি দুর্ঘটনার ঘটনা বারবার ঘটছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই