ইরানের সাম্প্রতিক আন্দোলনে সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস দমনের পরিবর্তে গণতন্ত্রে আঘাত হানছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের দূতাবাসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, আন্দোলন ঘিরে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরানের আন্দোলনে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ঢুকে বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নবনিযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা।
আন্দোলন ঘিরে যে ভয়াবহতা ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে, ইরানে তা আগে কখনো ঘটেনি জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।’ তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে মৃতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং প্রকৃত তথ্য জানতে আরও সময়ের প্রয়োজন।
জলিল রহিমি জাহনাবাদী বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছিল, তাদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীরাই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে। বর্তমানে মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে; কতজন নিহত হয়েছে তার কোনো চূড়ান্ত পরিসংখ্যান এখনো ঘোষণা করা হয়নি।’
আন্দোলনের সময় ইরানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকলেও ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেশজুড়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পরমাণু অস্ত্র নয়, বরং তারা ইরানের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ চায়।
মার্কিন নীতির সমালোচনা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত ছিল আইএস বা অন্য জিহাদি গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্রাদারহুডের মতো দলগুলোকে শক্তিশালী করা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। কিন্তু তিনি উল্টো কাজ করেছেন।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং দুই-একদিনের মধ্যে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।




Comments