Image description

চীনে টানা চতুর্থ বছরের মতো জন্মহার কমেছে। গত বছর দেশটিতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন জন্মহার রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৯০ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৫০ লাখে।

জন্মহারের এই ধারাবাহিক পতন চীনের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ চীনে বর্তমানে জন্মহার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট জন্মসংখ্যা নেমে এসেছে ৭৯ লাখে, যা ২০২৪ সালের ৯৫ লাখের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে, একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখে।

২০২২ সাল থেকেই চীনে জনসংখ্যা কমার এই উদ্বেগজনক প্রবণতা শুরু হয়। তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। 

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তরুণ শ্রমশক্তির অভাব সরকারি কোষাগার ও পেনশন ব্যবস্থার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করবে। বর্তমানে চীনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশের (২২ কোটি ৩৬ লাখ) বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ১৯৭৯ সালে ‘এক সন্তান নীতি’ চালুর পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। জনসংখ্যা অতিরিক্ত কমে যাওয়ায় ২০১৬ সালে সেই নীতি থেকে সরে আসে বেইজিং। 

বর্তমানে দম্পতিরা চাইলে তিনটি সন্তান নিতে পারেন এবং সরকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনাও দিচ্ছে। তবে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দেরিতে বিয়ের প্রবণতার কারণে এসব পদক্ষেপে খুব একটা সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।