সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিরিয়াল কিলার ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার আসল নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ, পরিবারের মধ্যে তিন ভাই ও চার বোন রয়েছেন। সবুজ পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান, জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের কিছু আত্মীয় বরিশাল এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানাচ্ছে, সবুজ নাম ও পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের নির্জন ভবনে নিয়ে যেত। সেখানে যদি ওই নারীরা অন্য কারো সঙ্গে বা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করত, তিনি তাদের হত্যা করত। এসব ঘটনায় তার দেওয়া স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, আদালতে সবুজ যে তথ্য দিয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। সবশেষ ঘটনার কয়েক দিন আগে তিনি তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে রাখেন। ওই ভবঘুরে যুবকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক হলে প্রথমে তাকে হত্যা করে, এরপর ওই তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে মরদেহ টয়লেটে পুড়িয়ে দেন।
সাভার থানার সামনে থেকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সবুজকে আটক করা হয়। পরে কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ ৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সবুজ ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ২৯ আগস্ট, ১১ অক্টোবর ও ১৯ ডিসেম্বর বিভিন্ন সময় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে যুবক ও নারীদের হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা ও পোড়ানোর ঘটনা ঘটে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments