Image description

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভোটের দিন পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যেই ভোট দখলের নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী পোস্টাল ভোটসহ বিভিন্ন কৌশল নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। অনেক তরুণ-তরুণী জন্মের পর আজও ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। দেশের মানুষ এখন ভোট দিতে চায়, নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। বিএনপি জনগণের সেই সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণেই দেশ আজ নানা সংকটে পড়েছে। ভোটাধিকার নষ্ট হলে রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা থাকে না, আর জবাবদিহিতা না থাকলে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও বৈষম্য ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পায়।’

জনসভায় তিনি হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে আলহাজ জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে সৈয়দ মো. ফয়সলের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে লাখ লাখ শিক্ষিত যুবক বেকার। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি চা শ্রমিকসহ সব পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যাতে ন্যূনতম জীবনযাপন নিশ্চিত করা যায়।’

ধর্মীয় খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অবদান রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী চালু করা হবে।’ কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি কার্ড প্রবর্তনের কথাও জানান তিনি।

জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা ১৯৭১ সালে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের চরিত্র নতুন করে দেখার কিছু নেই।’ তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে অর্থ পাঠানোর মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে ন্যায়পরায়ণতার নির্বাচন-জনগণের নির্বাচন। জনগণের রায়ে সরকার গঠিত হলে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।’ তিনি ভোটের দিন ফজরের নামাজ আদায় করে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আলী মুকিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাম্মী আক্তার শিফাসহ হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের প্রার্থীরা।

এর আগে বুধবার রাতে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমান ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছান। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।