Image description

ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ‘বিশাল বহর’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও কিছুদিন আগেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবু ওয়াশিংটন যে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি বাদ দেয়নি—সেই বার্তাই নতুন করে উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

প্যারিসভিত্তিক এক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কার্যক্রমের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান চালানো এবং আন্দোলনকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে তেহরান ফাঁসির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে দাবি করে তিনি সেই হুমকি থেকে কিছুটা পিছু হটেন।

এর মধ্যেই গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যমে জানানো হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর আক্রমণকারী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজেও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম শেষ করে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের ওপর কড়া নজর রাখছি। আমাদের অনেক জাহাজ ওই পথে যাচ্ছে, যদি প্রয়োজন হয়। একটি বিশাল বাহিনী ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, হয়তো এই নৌশক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেন, তার কড়া অবস্থানের কারণেই ইরানে শত শত বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি। একইসঙ্গে তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও তিনি প্রস্তুত।

এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানকে ঘিরে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়েছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে দেশটির বিরুদ্ধে একাধিকবার নতুন হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

মানবকণ্ঠ/আরআই