Image description

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ এখন পুরোপুরি জমে উঠেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের শক্ত অবস্থান নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়রা এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছেন।

বাঁশখালী এক সময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। সাবেক মন্ত্রী মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এখান থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০২২ সালে তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 

এবার দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জাফরুল ইসলামের কনিষ্ঠ সন্তান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পু। কিন্তু তাঁর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গণ্ডামারা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী। হাইকমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে অনড় রয়েছেন। এতে বিএনপির ভোট ব্যাংক ভাগ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জহিরুল ইসলাম। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের পূর্ণ প্যানেলের জয় এবং জহিরুল ইসলামের ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ ও তাঁর বাবা ইসহাক হুজুরের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াত। বিএনপির দুই প্রার্থীর লড়াইয়ের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় তারা।

জোটের বাইরে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জনসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন, যা মূলত জামায়াতের ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাতে পারে। এছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আব্দুল মালেক আশরাফী, গণঅধিকার পরিষদের আরিফুল হক তায়েফ এবং মুসলিম লীগের এহছানুল হকও প্রচারণায় রয়েছেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পু বলেন, "আমার পিতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বাঁশখালীর মানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন। আমি বিজয়ী হলে তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করব এবং বাঁশখালীকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ব।"

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, "মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান ও একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে পরীক্ষিত সেবক। ইনশাআল্লাহ, বাঁশখালীর মানুষ এবার জামায়াতকে বেছে নেবে।"

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, "দল মূল্যায়ন না করলেও বাঁশখালীর মানুষ আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমি সংসদকে অবহেলিত বাঁশখালীর দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরব।"

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার বলেন, "এলাকার মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত। নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস দূরীকরণের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে কাজ করব।"

বাঁশখালী আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ এবং নারী ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন। হিজড়া ভোটার ৪ জন। মোট ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুধাংশু শেখর হালদার জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বাঁশখালীর মানুষ কার হাতে তাদের ভাগ্য সঁপে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর