নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী সরকারের নিয়োগকর্তা বৈষম্যবিরোধী নেতারা, যারা পরবর্তী সময়ে এনসিপি গঠন করেছেন। তারাই বর্তমানে সরকারি দল, তাদের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। সরকার ও সরকারি দল মিলে প্রহসনমূলক নির্বাচন করে রাষ্ট্র দখল করতে চায়।
শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙ্গলের প্রচারণা শুরুর আগে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জি এম কাদের।
তিনি বলেন, ‘নানা বাধা-বিপত্তির মুখে আমরা নির্বাচনে এসেছি। তারা আমাদের দলকে ভাগ করার চেষ্টা করেছিল, নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমরা তা রুখে দিয়েছি। আমাদের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে জেলে রাখছে, কোনো জামিন হচ্ছে না।
আমাদের নির্বাচনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারপরও আমরা আমাদের রাজনীতি করছি। দরকার হলে বুকের রক্ত দেব, তবুও আমরা আমাদের অধিকার আদায় করে ছাড়ব। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না, যা কোনোভাবেই ঠিক নয়। তারা যদি নির্বাচনে আসতে চায়, তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে, অত্যাচার করা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি চাচ্ছে। তাদের ভোট দিলে সমস্যা নেই, কিন্তু জাতীয় পার্টিকে ভোট দিলে তাদের ভোট দিতে দেবে না। আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি, আমাদের যেন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়।’
‘হ্যাঁ, ‘না’ ভোট প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, রংপুরে সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, যারা না ভোট চাচ্ছেন, তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, আমরা দেশ বাঁচাতে ‘না’ ভোটের পক্ষে। আর যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তারা নাৎসিবাদের দোসর।
নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জি এম কাদের। তিনি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুরে লাঙ্গলের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন এবং নগরীর সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর ও জাহাজ কোম্পানি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পথচারী, ব্যবসায়ীসহ সবার কাছে লিফলেট দিয়ে ভোট চান।




Comments