ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে বলে প্রবল গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গবলবার (২৭ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই হামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সময় পরিবর্তন হতে পারে।
মূলত ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ এবং ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ওয়াশিংটন এই সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে কিছুটা নমনীয় ভাব দেখালেও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সরে আসেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, এফ-৩৫ ও এফএ-১৮ যুদ্ধবিমানসহ আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ইতোমধ্যে রণক্ষেত্রে পৌঁছেছে। তবে এই সম্ভাব্য হামলাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্ক এই হামলার প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে এবং তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
অন্যদিকে, ইরানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা হলে সেই দেশগুলোকেও পাল্টা আক্রমণের শিকার হতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা শুরু হলে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া বা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি আঘাত হানার মতো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments