Image description

সূর্যে হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিশাল আলোক-বিস্ফোরণ বা 'সোলার ফ্লেয়ার'-এর উৎস নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) পাঠানো মহাকাশযান 'সোলার অরবিটার' সূর্যের এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে নতুন এক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে।

বিস্ফোরণ কীভাবে শুরু হয়?
সোলার অরবিটারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সূর্যের অভ্যন্তরীণ চৌম্বকীয় ক্ষেত্রগুলো প্রথমে ছোট ছোট অস্থিরতায় ভেঙে পড়ে। এই অস্থিরতাগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বড় হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে একটি বিশাল 'চৌম্বকীয় ধস' তৈরি করে। এই ধস থেকেই সূর্যের সেই প্রবল শক্তি-বিস্ফোরণের সূচনা হয়।

অভাবনীয় পর্যবেক্ষণ:
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সূর্যের মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ মাইল দূর থেকে একটি মাঝারি মাত্রার শক্তিশালী আলোকঝলক বা সোলার ফ্লেয়ার পর্যবেক্ষণ করে মহাকাশযানটি। সোলার অরবিটারের বিশেষ ক্যামেরায় প্রথমবারের মতো দেখা যায়, সূর্যের প্যাঁচানো চৌম্বকীয় রেখাগুলো ভেঙে গিয়ে আবার একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে বলছেন ‘ম্যাগনেটিক রিকানেকশন’ বা চৌম্বকীয় পুনঃসংযোগ।

এই পুনঃসংযোগের ফলে কয়েকশ কিলোমিটার চওড়া উজ্জ্বল রেখা এবং ছোট ছোট অসংখ্য আলোর ঝলকানি তৈরি হয়, যা ধাপে ধাপে একটি বিশাল বিস্ফোরণে রূপ নেয়।

তীব্র তাপমাত্রা ও পৃথিবীর ওপর প্রভাব:
এই প্রক্রিয়ায় সূর্যের অতি উত্তপ্ত গ্যাস বা প্লাজমা কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণ চার্জিত কণা মহাশূন্যে ছিটকে পড়ে। গবেষণা জানাচ্ছে, এই বিস্ফোরণের ফলে অনেক সময় বিশাল প্লাজমা মেঘ (করোনাল মাস ইজেকশন) নির্গত হয়।

যদি এই প্লাজমা মেঘ পৃথিবীর দিকে ধাবিত হয়, তবে তা শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় (Geomagnetic Storm) তৈরি করতে পারে। এর ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিপিএস, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এর একটি সুন্দর দিকও রয়েছে; এই ঝড়ের প্রভাবেই পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে উজ্জ্বল ও মনোরম মেরুজ্যোতি বা অরোরার সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, সোলার অরবিটারের এই নতুন তথ্য ভবিষ্যতে সৌরঝড় এবং মহাকাশের আবহাওয়া সম্পর্কে আরও নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করবে।