পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। আজ (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে জিও সুপার ও জিও নিউজের একাধিক সূত্র।
বিশ্বকাপ ইস্যুতে পাকিস্তানের সামনে একাধিক বিকল্প থাকলেও, বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া আচরণকে ‘অবিচার’ হিসেবে দেখেই টুর্নামেন্ট বয়কটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে পিসিবি। গত এক সপ্তাহ ধরেই এই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে দেশটির ক্রিকেট মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক অনুরোধ ঘিরে। বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বিসিবি। একই সঙ্গে আইসিসির কাছে ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য কোনো ভেন্যুতে সরানোর আবেদন করে তারা।
তবে আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে জানায়, বিশ্বকাপ শুরুর তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও বিসিবি সিদ্ধান্ত বদল না করায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের বাদ পড়ার ঘটনায় পাকিস্তানের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। বিশেষ করে উপমহাদেশের একটি পূর্ণ সদস্য দেশকে এভাবে টুর্নামেন্টের বাইরে রাখাকে অন্যায় হিসেবে দেখছে পিসিবি। এই প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কটের জল্পনা জোরালো হয়।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। আজকের বৈঠকে সেই আলোচনারই চূড়ান্ত রূপ দেয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে, সে ক্ষেত্রেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করার বিকল্প ভাবনায় রয়েছে বোর্ড।
বিশ্বকাপ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণেই গতকাল পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টসের পর নতুন জার্সি প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয় ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে।
এদিকে, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ না নেয়, সে জন্যও বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে পিসিবি। জিও সুপার জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিটনেস ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে রাখতে চার দলীয় একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
লাহোরে আয়োজিত হতে পারে এই প্রতিযোগিতা, যেখানে পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি শাহিনস স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের নিয়ে চারটি দল গঠন করা হবে। মূলত বাংলাদেশের মতোই বিশ্বকাপ ব্যস্ততা না থাকলে দেশীয় টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখার কৌশল নিচ্ছে পিসিবি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে সুযোগ হারানোর পর বিসিবি ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ কাপ’ নামে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানির ওই প্রতিযোগিতায় ধূমকেতু একাদশ, দুর্বার একাদশ ও দুরন্ত একাদশ এই তিন দল অংশ নিচ্ছে। জাতীয় দলের অধিনায়ক লিটন দাস, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিশ্বকাপ নাটক এখন পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের ওপর গিয়ে ঠেকেছে। আজকের বৈঠকের পরই পরিষ্কার হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এ পাকিস্তান খেলছে, নাকি বাংলাদেশের পথেই হেঁটে বিকল্প টুর্নামেন্টেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments