Image description

বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমার ধর্ম আমাকে শেখায় অন্যের ধর্মকে আঘাত না করতে, কাউকে কষ্ট দিয়ে কথা না বলতে। এটা আমাদের নবীজিও (সা.) নিষেধ করেছেন। তাই আমি তা করি না। আমরা বিশ্বাস করি—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আমরা বিভাজন নয়, ঐক্য চাই।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের জাগরণী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে প্রচুর সমালোচনা হয়। কারণ আমি সাধারণ মানুষের কথা বলি, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলি। তবে আমি সমালোচনা পরোয়া করি না, আমৃত্যু মানুষের কথা বলে যাব।”

নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা দেশটাকে কোন দিকে নিয়ে যাব—সামনের দিকে না পেছনের দিকে? আমরা বিভাজন চাই নাকি ঐক্য? এই সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে।”

নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের রাজনীতি হবে পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী এবং মানুষের কল্যাণের জন্য। যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, পাকহানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে—আমরা তাদের পক্ষে থাকতে পারি না। যারা গণহত্যার জন্য এখন পর্যন্ত ক্ষমা চায়নি, তাদের সমর্থন করার প্রশ্নই আসে না। আমরা ১৯৭১-এর স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে সামনে এগোতে চাই।”

বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ১১ বার জেলে গিয়েছি, সাড়ে তিন বছর কারাবরণ করেছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষ নেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপনাদের।”

পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনানসহ স্থানীয় পৌর ও ওয়ার্ড বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর