প্রচারের শেষে এখন ভোট গ্রহণের অপেক্ষা। নির্বাচনের এমন আগমুহূর্তে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, গুলিসহ সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছেন র্যাবের সদস্যরা। ভারত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় একটি ডোবা সেচে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, নির্বাচনে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে এসব অবৈধ অস্ত্র মজুত করেছিল সন্ত্রাসীরা।
মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর ১২টা সময়ের মধ্যে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ভারত সীমান্তবর্তী কটকবাজার এলাকায় ডোবা সেচে এসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে তিনটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার ও তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র। এ ছাড়া বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। র্যাব বলছে, কোথা থেকে বা কাদের মাধ্যমে এসব অস্ত্র এসেছে, সেটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র মজুত করা হয়েছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে র্যাবের সদস্যরা ভারত সীমান্তবর্তী কটকবাজার গ্রামে অভিযান চালান। অস্ত্রগুলো একটি ডোবার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে ওই ডোবা সেচে দুপুর প্রায় ১২টার দিকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিগুলো স্কচটেপে প্যাঁচানো ছিল। এ ছাড়া দেশীয় ধারালো অস্ত্রগুলো স্কচটেপ প্যাঁচানো দুটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে ছিল। সীমান্ত থেকে মাত্র সাড়ে ৩০০ মিটার দূরের ওই ডোবা থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে।
দুপুর একটার দিকে র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, ‘গতকাল রাতেই আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারি। এরপর রাতভর নজরদারি অব্যাহত রেখে পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোর থেকে অভিযান শুরু হয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। কারা এসব অবৈধ অস্ত্রের পেছনে রয়েছে, তাদের বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। এ ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
র্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, এসব অস্ত্র নির্বাচনের পরিস্থিতি নষ্ট করার জন্যও মজুত করা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে যেহেতু তদন্ত চলছে-এখনই বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। বড় কোনো নাশকতার জন্য এসব অস্ত্র এখানে রাখা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




Comments