Image description

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আশাবাদী যে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং মানুষ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবে। দেশের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করতে কাউকে না কাউকে বিরোধী দলে থাকতে হবে। তাই সবাই মিলে সরকার গঠনের চেয়ে এককভাবে সরকার গঠন এবং শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি ডামাডোলের মাঝে মাতৃবিয়োগের শোক—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করে তাকে কেউ টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে নিয়ে বিএনপির ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এই সুযোগ আরও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গৃহিণীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, তরুণ ও বয়স্ক—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যে কোনো দেশের সাথেই হোক না কেন তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে।’

গত দেড় দশকে সংঘটিত গুম ও খুনের বিচার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে আর তার বিচার হবে না, এটা হতে পারে না। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

দলের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি এবং ব্যবসায়িক কারণে ডিফল্ট হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিগত স্বৈরাচারী সরকার বিএনপির ব্যবসায়ী নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলা চালিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ন্যায্য ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত করেছে। এ কারণেই অনেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে ডিফল্ট হয়েছেন, যা কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। দুর্নীতি দমনে বিএনপির ইশতেহারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।