রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব শেষ হলেও এখনো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই অবস্থান করছেন সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গুলশানে তার নিজস্ব বাসভবনে সংস্কার ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তুতি চলায় কয়েকদিনের জন্য তিনি যমুনায় রয়েছেন। কাজ শেষ হলেই সপরিবারে সেখানে ফিরে যাবেন।
যমুনা ছাড়ার প্রস্তুতি
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর যমুনাকেই সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই প্রশাসনিক কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণী বৈঠক, নির্বাচনসংক্রান্ত আলোচনা এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্পন্ন হয়।
দায়িত্ব শেষ হওয়ায় সরকারি বাসভবন ছাড়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নথিপত্র হস্তান্তর, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সমাপ্তির কাজ চলছে। বর্তমানে স্ত্রী ও কন্যাসহ যমুনায় অবস্থান করছেন তিনি। সরকারি প্রটোকল ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হলেও নোবেলজয়ী ও সাবেক সরকারপ্রধান হিসেবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে।
ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি
রাষ্ট্রীয় অধ্যায় শেষ হলেও কর্মপরিকল্পনা থেমে নেই। আগামী সপ্তাহ থেকেই তার প্রতিষ্ঠিত ইউনূস সেন্টার-এ নিয়মিত অফিস শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন।
বিশেষ করে তার ‘থ্রি জিরো’ ধারণা—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ জোরদারের প্রস্তুতি চলছে। সামাজিক ব্যবসা, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে আবারও সক্রিয় হতে চান তিনি।
জাপান সফর সামনে
মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপান সফরের পরিকল্পনা রয়েছে অধ্যাপক ইউনূসের। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন-এর আমন্ত্রণে পাঁচ দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে বক্তৃতা ও নীতি-আলোচনায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করবেন। দায়িত্ব-পরবর্তী এটিই হবে তার প্রথম বিদেশ সফর।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা
২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়ে তিনি অনন্য পরিচিতি পান।
রাষ্ট্র পরিচালনার অধ্যায় শেষ হলেও তিনি দেশেই থাকছেন এবং নতুন বাস্তবতায় সামাজিক উদ্যোগ ও বৈশ্বিক সহযোগিতাকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। যমুনায় প্রশাসনিক ব্যস্ততা কমলেও থেমে নেই তার কর্মযাত্রা—বরং শুরু হচ্ছে আরেকটি অধ্যায়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments