Image description

১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদী ঘেঁষা কাশাদহ খাল খননের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম হয় সেদিন। সেটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা নয়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর এক প্রত্যক্ষ উদ্যোগ। চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজও সেই খাল বহন করছে স্বপ্নের স্মৃতি। 

সেই খালকে ঘিরেই গড়ে ওঠে কাশাদহ সেচ প্রকল্প। যমুনা নদী থেকে পাম্পের মাধ্যমে সরাসরি পানি তুলে শিবালয় উপজেলার ১২টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার কৃষক ইরি-বোরো আবাদ করে আসছেন। প্রায় ১২শ বিঘা বা ৩৯৬ একর জমিতে গত ৪৬ বছর ধরে স্বল্প খরচে বোরো চাষ সম্ভব হয়েছে। আয়রনমুক্ত নদীর পানি জমির উর্বরতা বজায় রেখেছে, কমেছে সেচ ব্যয়। প্রথমদিকে ২০টি পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি তোলা হত। বর্তমানে তিনটি পাম্প দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে প্রকল্পটি।

কিন্তু এ বছর দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। আরিচা খালপাড়ে যমুনা নদীর তীরে প্রকল্পের পানির হাউজের পশ্চিম পাশে বিশাল চর জেগে উঠেছে। মূল নদী সরে গেছে দূরে। ফলে ক্যানালে পানির প্রবাহ কমে গেছে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। চর না কাটলে পাম্পে পানি তোলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

এমন পরিস্থিতিতে কাশাদহ খালের পুনঃখননে স্বপ্ন বুনছেন সুবিধাভোগীরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির পুনরায় এ উদ্যোগ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সেচ প্রকল্পের সভাপতি মো. সফিউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা রাণী কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম, জেলা বিএনপি আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য সত্যেনকান্ত পন্ডিত ভজন, জেলা যুবদলের আহ্ববায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, উপজেলা বিএনপি সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।