জুলাই-আগস্ট গণহত্যাকারীদের জামিন প্রদান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন যে, এসব আত্মঘাতী পদক্ষেপ বন্ধ না হলে ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর যে বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়েছিল, সেই অপরাধে জড়িতদের একের পর এক জামিন দেওয়া হচ্ছে। এটি দেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য এক অশনিসংকেত।”
বিবৃতিতে তিনি বিশেষভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির জামিনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গণহত্যার সক্রিয় সহযোগী ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের এভাবে মুক্তি দেওয়া জাতির জন্য উদ্বেগজনক। দেশবাসীর আশঙ্কা, পুনরায় আওয়ামী লীগের অফিসগুলো খুলে দিয়ে সেখানে বসে তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র পরিচালনা করবে।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি পূর্ববর্তী ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, “শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারী কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করেছিল। এ ধরনের অপরাধীদের মুক্তি দিলে তারা আবারও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়বে, যার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।”
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল আরও অভিযোগ করেন, ‘সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ উপেক্ষা করে পুলিশ হত্যার তদন্তের নামে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাদের মনে রাখা উচিত—এ ধরনের হঠকারী পদক্ষেপের পরিণতি থেকে কেউ রেহাই পাবে না।”
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আবদুর রহমান বদি ও সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ জামিনপ্রাপ্ত সকল আওয়ামী লীগ নেতার জামিন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সাথে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেসব কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের মুখে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments