Image description

ইরানের রাজধানী তেহরানে শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতাকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি জানেন খামেনি কোথায় লুকিয়ে আছেন।

হামলার পরপরই রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইরানি দাপ্তরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, তেহরানের উত্তরের শেমিরান এলাকায় খামেনির বাসভবন এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের কাছে অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ইরান সরকার।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসনা’র (ISNA) ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সংলগ্ন পাস্তুর স্ট্রিট এবং উত্তরের সৈয়দ খন্দান এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' দেয়া এক ভিডিও বার্তায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, "আমরা জানি এই তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ নেতা’ কোথায় লুকিয়ে আছেন। তিনি আমাদের জন্য একটি সহজ লক্ষ্যবস্তু। তবে আপাতত তিনি সেখানে নিরাপদ আছেন; আমরা তাঁকে সরিয়ে দিচ্ছি না— অন্তত এই মুহূর্তে নয়।"

ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধকালীন অভিযান শুরু করেছে। তিনি ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে শাসনভার নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ট্রাম্পের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের হামলার মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, খামেনিকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের অবসান সম্ভব।

যদিও ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে—ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতেই এই 'শিল্ড অব জুডাহ' অভিযান। মূলত ইরানকে পরমাণু ইস্যুতে একতরফা চুক্তিতে বাধ্য করতেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক শক্তি মোতায়েন করে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর