দক্ষিণী চলচ্চিত্রের মহাতারকা থালাপতি বিজয়ের ২৫ বছরের সাজানো দাম্পত্যে চিড় ধরার খবর এখন টক অফ দ্য টাউন। তবে এই ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ কি কেবল আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তার সদ্য শুরু হওয়া রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিজয়ের ভক্তমহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে।
সম্প্রতি বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা স্বর্ণলিঙ্গম বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানানোর পরই আলোচনা শুরু হয়েছে যে, রুপালি পর্দার ‘আদর্শবাদী নায়ক’ এবং ব্যক্তিজীবনের সুশৃঙ্খল ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ইমেজ পুঁজি করে বিজয় যে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে চেয়েছিলেন, এই বিচ্ছেদ সেই পথে বড় বাধা হতে পারে কি না।
ভাবমূর্তির সংকট: তামিলনাড়ুর রাজনীতির ইতিহাসে সাধারণ ভোটারদের কাছে একজন নেতার ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। বিজয়ের সিনেমাগুলোতে তাকে সবসময় সামাজিক ন্যায়বিচার, নারী ও কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে দেখা যায়। তার রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম’ মূলত সেই স্বচ্ছ ও নিখুঁত ভাবমূর্তির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল। এখন ডিভোর্সের খবরে সেই ‘নিখুঁত পারিবারিক মানুষ’ ইমেজটি হোঁচট খেতে পারে, যা বিশেষ করে বয়স্ক ও রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের সামনে এখন অগ্নিপরীক্ষা। বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের সঙ্গে যদি পরকীয়া বা অনৈতিকতার কোনো মুখরোচক গুজব সামনে আসে, তবে তার কট্টর অনুসারীদের আস্থায় চিড় ধরা স্বাভাবিক। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে রাজ্যের তরুণ বা ‘জেন-জি’ ভোটাররা। এই প্রজন্মের বড় অংশ বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে তার রাজনৈতিক আদর্শ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং ‘তামিল গর্ব’র বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের কাছে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ কোনো নেতার রাজনৈতিক যোগ্যতা বিচারের মাপকাঠি নয়।
ইতিহাস কী বলে? তামিল রাজনীতির ইতিহাস বলছে, এম জি রামচন্দ্রন বা জয়ললিতার মতো কিংবদন্তি মহাতারকারাও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত ও আইনি সংকটের মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই বাধা কাটিয়ে রাজনীতিতে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বিজয় কি পারবেন বাস্তব জীবনের এই নাটকীয়তা সামলে নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য ঠিক রাখতে? পর্দার ‘থালাপতি’ বা সেনাপতি হিসেবে পরিচিত বিজয় মাঠের রাজনীতিতে এই বিচ্ছেদ-ঝড় কতটা দক্ষ হাতে সামাল দিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। আগামী কয়েক মাস তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময় হতে চলেছে।
সূত্র : গালফ নিউজ
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments