ইরানকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রণকৌশল এক বড় ধরনের ‘ভুল হিসাবের’ ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি। তাঁর মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে একের পর এক ঊর্ধ্বতন নেতাদের হত্যা করলে ইরান একসময় আত্মসমর্পণ করবে, কিন্তু বাস্তবে ইরানি নেতারা যুদ্ধের চেয়ে আত্মসমর্পণকে অনেক বেশি ভয় পান।
সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারসি এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারণা ছিল পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করলে ইরানিরা আতঙ্কিত হয়ে আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু তিনি এটি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, ইরানি সরকারের কাছে যুদ্ধের চেয়ে আত্মসমর্পণ অনেক বেশি বিপজ্জনক।
পারসি ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানি সরকার বিশ্বাস করে তারা একটি যুদ্ধে কোনোভাবে টিকে থাকতে পারবে, কিন্তু একবার আত্মসমর্পণ করলে তাদের আর টিকে থাকার কোনো পথ থাকবে না। তাই দেশটিতে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয় যে নতি স্বীকার করবে। কোনো নেতাকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে হলে কেবল নেতৃত্ব স্তরের বিনাশ নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পুরো দেশটিকে ধ্বংস করতে হবে।
মার্কিন প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে এই বিশ্লেষক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন জানে না ইরানকে নিঃশেষ করা আদৌ সম্ভব কি না, আর সম্ভব হলেও তাতে ঠিক কত সময় লাগবে। অন্যদিকে, ইরানের কৌশল হচ্ছে সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কেবল নিজের সীমানায় সীমাবদ্ধ না রাখা।
ইরানিদের পাল্টা রণকৌশল হলো—মার্কিন সেনা, বিশ্ব অর্থনীতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক বাজারের ওপর যতটা সম্ভব আঘাত হানা। তারা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যাতে ইরানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করাটাও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। মূলত এই ‘চড়া মূল্যের’ ভয় দেখিয়েই ইরান মার্কিন চাপ মোকাবিলা করতে চায়।
সূত্র: আল জাজিরা
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments