Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২ জন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭ জন। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহতদের পরিচয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক (৪৮)। তিনি বাহরাইনের একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জাহাজের ওপর পড়লে প্রাণ হারান। অন্যজন সিলেটের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে নাগরিক স্থাপনায় আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন।

আহতদের অবস্থা: কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৪ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তারা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া। কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহতরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া বাহরাইনের একই ঘটনায় আরও ৩ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

সরকারের পদক্ষেপ ও উদ্বেগ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সেখানে বসবাসরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। জাহাজের ক্যাপ্টেন ও সকল ক্রু সদস্য সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে দূতাবাস।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই