Image description

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি উৎপাদক দেশ কাতার উৎপাদন বন্ধ করায় সরবরাহ আরো কমে গেছে। ফলে ভারতীয় কম্পানিগুলো আগাম প্রস্তুতি হিসেবে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভারতের শীর্ষ গ্যাস আমদানিকারক কম্পানি পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিপণন সংস্থা গেইল (ইন্ডিয়া) এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে কম সরবরাহের বিষয়ে জানিয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্প (আইওসি) ও গেইল সোমবার রাতে তাদের গ্রাহকদের এ বিষয়ে অবহিত করেছে।

ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক দেশ এবং আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কম্পানির সবচেয়ে বড় এলএনজি ক্রেতা।

এ ছাড়া কাতারের এলএনজির দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা।

একাধিক সূত্র আরো জানায়, সরবরাহ কমানো হলেও তা চুক্তির ন্যূনতম উত্তোলন পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গ্রাহকদের কাছ থেকে জরিমানা নিতে না হয়। এলএনজির ঘাটতি পূরণে আইওসি, গেইল, পেট্রোনেট এলএনজিসহ বিভিন্ন কম্পানি স্পট টেন্ডার জারি করার পরিকল্পনা করছে। তবে স্পট মার্কেটের দাম, পরিবহন খরচ ও বীমা ব্যয় ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে।

ড্রোন হামলার পর সোমবার কাতার এনার্জি এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করে, যা বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। ইরানের ড্রোন হামলায় মেসাইয়েদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংক এবং কাতার রাস লাফান এলাকায় কাতারএনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি উৎপাদক।

কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত শক্তি সংস্থা ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। ফোর্স মেজর হলো বিশেষ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িকভাবে মুক্ত থাকার ঘোষণা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব হরমুজ প্রণালীতেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্ট্রেইট হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এখানে উত্তেজনা বাড়ায় তেল ও গ্যাসের দাম আরো বেড়েছে। 

কাতারের এলএনজি রপ্তানি বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ। সরবরাহ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে ইউরোপের শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার দরপতন দেখা গেছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আবারও বেড়েছে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ডাচ টিটিএফ গ্যাস চুক্তির দাম ৩৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা সোমবার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার তীব্রতা এবং কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট উদ্যোগ না থাকায় দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরো ব্যাপক হতে পারে।