Image description

বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে ধর্ষণ ও হত্যার এক পৈশাচিক মহোৎসব পরিলক্ষিত হয়েছে। কিশোরী থেকে শুরু করে শিশু, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকাও এই নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পাননি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত নরসিংদী, পাবনা, গাইবান্ধা, চট্টগ্রাম, যশোর ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া একের পর এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নরসিংদীতে বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা: ২৬ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর সদরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর লাশ শর্ষেখেত থেকে উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, নূরা নামের এক বখাটের লালসার শিকার হওয়ার পর পরিবার স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিচার চেয়েছিল। বিচার না পেয়ে উল্টো হুমকির মুখে কিশোরীকে সরিয়ে নেওয়ার পথে বাবার কোল থেকে তাকে অপহরণ করে ওই বখাটেরা। পরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়।

পাবনায় দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে ধর্ষণ ও খুন: ২৮ ফেব্রুয়ারি পাবনার ঈশ্বরদীতে এক নৃশংস ঘটনা ঘটে। শরিফুল নামের এক স্বজন দাদি সুফিয়া বেগমকে (৭০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর ১৬ বছরের নাতনি জামিলা খাতুনকে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার পর ধর্ষণ করা হয়। পুলিশ ঘাতক শরিফুলকে গ্রেপ্তার করেছে।

গাইবান্ধায় শিক্ষিকাকে হাত-পা বেঁধে হত্যা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শামসুন্নাহার রুমা নামে এক স্কুলশিক্ষিকাকে তাঁর নিজ বাসায় হাত-পা বেঁধে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার হওয়া এই মরদেহের পাশে কনডম উদ্ধার হওয়ায় পুলিশ ধারণা করছে, ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাটে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডে শিশুর শ্বাসনালি কাটা দেহ উদ্ধার: ১ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড় থেকে ৮ বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নিশা ইরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুর্বৃত্তরা তার গলার শ্বাসনালি কেটে ফেলে রেখে গিয়েছিল। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সে মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই শিশুটিকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

যশোরে নানার লালসার শিকার শিশু: ৩ মার্চ যশোরে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার নানির আপন ভাই হাফিজুলের বিরুদ্ধে। অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত হাফিজুল বর্তমানে পলাতক।

উখিয়ায় সাহ্‌রির সময় গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা: কক্সবাজারের উখিয়ায় গত সোমবার দিবাগত রাতে সাহ্‌রি খাওয়ার সময় ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও মারধর করে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। প্রতিবেশীরা আসার আগেই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খুন: সবশেষ আজ বুধবার (৪ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া লুনাকে তাঁর নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বেতন ও বদলি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিভাগেরই এক কর্মচারী ফজলু এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। হামলার পর ওই কর্মচারী নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিক্ষিকার মৃত্যু হয়।

সপ্তাহজুড়ে ঘটে যাওয়া এসব পৈশাচিক ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কেই নির্দেশ করছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই