ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়ায় গবিসাস কার্যালয়ে গকসুর ‘মব’, বন্ধের হুমকি
সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) কার্যালয় বন্ধের হুমকি ও সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) নেতাদের বিরুদ্ধে। গণধর্ষণের শিকার এক ছাত্রীকে নিরাপত্তা প্রদান ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, সাংবাদিক সমিতি বন্ধ করার কোনো এখতিয়ার গকসুর নেই।
প্রত্যক্ষদর্শী ও গবিসাস সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে গকসুর ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান ও জিএস রায়হান খানের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী গবিসাস কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, গবিসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। এ সময় জিএস রায়হান খান টেবিল চাপড়ে গবিসাস বন্ধের ঘোষণা দেন এবং ৫ মিনিটের মধ্যে সাংবাদিকদের অফিস ত্যাগের আল্টিমেটাম দেন। এ সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর করা হয় এবং সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, সম্প্রতি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় গকসু ভিপির ভাইসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত সোমবার ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ভিপির লোকজনের হাতে হয়রানির শিকার হয়ে গবিসাস কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এলে সেখানেও হামলা চালায় ভিপির সমর্থকরা। সেদিন গবিসাস ওই ছাত্রীকে নিরাপত্তা দিলে গকসু নেতারা ক্ষুব্ধ হন। এছাড়া গকসুর অরাজনৈতিক গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ভিপি, জিএস ও এজিএসের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে (ছাত্রদল ও শিবির) সম্পৃক্ত হওয়া নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তারা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে গকসু জিএস রায়হান খান দাবি করেন, “গবিসাস তাদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা এই সংগঠনকে আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তবে অরাজনৈতিক ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র ভেঙে দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে গবিসাসের প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার এখতিয়ার গকসু রাখে না।” উপাচার্য আবুল হোসেন জানান, তিনি ক্যাম্পাসে নেই, তবে বিষয়টি শুনেছেন এবং খতিয়ে দেখবেন।
গবিসাস সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ হাসান বলেন, “এটি সরাসরি মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর হামলা। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আদর্শে পরিচালিত গবিসাস সবসময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়া ও সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় আমাদের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রক্টর জানিয়েছেন, আগামী রোববার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈঠক ডাকা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments