টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন কয়েকজন কিংবদন্তি অলরাউন্ডার রয়েছেন, যারা ব্যাট এবং বল—উভয় হাতেই সমান দক্ষতা দেখিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম উজ্জ্বল করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) প্রতি সপ্তাহে খেলোয়াড়দের র্যাংকিং হালনাগাদ করে থাকে। তবে অলরাউন্ডারদের রেটিং নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি একটু ভিন্ন। এক্ষেত্রে ব্যাটিং ও বোলিং রেটিংয়ের গুণফলকে ১০০০ দিয়ে ভাগ করে চূড়ান্ত পয়েন্ট হিসাব করা হয়। ফলে একজন খেলোয়াড়কে দুই বিভাগেই সমান পারদর্শী হতে হয়, অন্যথায় উচ্চ রেটিং পাওয়া সম্ভব নয়।
এই কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সেরা রেটিং পয়েন্ট অর্জন করা খেলোয়াড়দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
শেন ওয়াটসন: তালিকার শীর্ষ দশে থাকা একমাত্র পেস-বোলিং অলরাউন্ডার তিনি। ২০১২-১৩ সালে টানা এক বছরের বেশি সময় ধরে ৪০০-এর বেশি রেটিং ধরে রাখা ওয়াটসন একমাত্র খেলোয়াড়, যার রেটিং ৫০০ ছাড়িয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ এক পারফরম্যান্সের (৭০ রান ও ২ উইকেট) পর তিনি সর্বোচ্চ ৫৬৬ রেটিং পয়েন্টের চূড়ায় পৌঁছান।
মোহাম্মদ হাফিজ: পাকিস্তানের 'প্রফেসর' খ্যাত এই তারকা মূলত ব্যাটার হলেও খণ্ডকালীন স্পিনার থেকে নিজেকে কার্যকরী অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০১৩ সালে তিনি ৪৫২ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেন।
শহীদ আফ্রিদি: বিধ্বংসী ব্যাটিং আর লেগ স্পিনের জাদুতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আদর্শ 'প্যাকেজ' ছিলেন আফ্রিদি। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখা এই তারকা ওই বছরের শেষদিকে ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ৪৩৭ রেটিং পয়েন্ট স্পর্শ করেন।
সাকিব আল হাসান: বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দীর্ঘ সময় ধরে এই তালিকায় রাজত্ব করেছেন। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই অন্তত একবার অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠা সাকিবের ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ রেটিং ছিল ৪২০, যা তিনি ২০১৫ সালের এপ্রিলে অর্জন করেছিলেন।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল: অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা ইদানীং বোলিং কম করলেও, ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস (অপরাজিত ১৪৫ ও ৬৬) খেলে ৩৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছিলেন।
সনাৎ জয়াসুরিয়া: নব্বইয়ের দশকে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের রূপকার জয়াসুরিয়ার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ ছিল। ২০১০ সালের এপ্রিলে তিনি ৩৬৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে অলরাউন্ডার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেছিলেন।
যুবরাজ সিং: টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের শুরুর দিকের 'পোস্টার বয়' ছিলেন যুবরাজ। ২০০৭ বিশ্বকাপে এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকানো এই ভারতীয় তারকা ২০১৩ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে সর্বোচ্চ ৩৬৩ রেটিং পয়েন্টে পৌঁছান।
মোহাম্মদ নবী: আফগানিস্তানের এই তারকা স্পিন-অলরাউন্ডার ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বেশ কয়েকবার শীর্ষস্থান দখল করেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তার সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট ছিল ৩৬১।
ডেভিড হাসি: মূলত ব্যাটার হলেও পার্ট-টাইম বোলিং দিয়েই এই অজি তারকা অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ের চূড়ায় উঠেছিলেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩৩৭ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেন তিনি। সে বছর বল হাতে তিনি বেশ কৃপণ ছিলেন।
সিকান্দার রাজা: জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডার চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝেই ৩২৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে আসেন। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তিনিই প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই ফরম্যাটে ৩০০০ রান ও ১০০ উইকেটের ডাবল মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments