ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভূপতিপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে চান্দিনা খাতুন (২২) নামে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মাথার চুল কেটে নির্যাতন করার পর ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে ভূপতিপুর গ্রামের মিন্টু চৌধুরীর ছেলে আমিরুল চৌধুরীর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় চান্দিনার। তাদের দুই ও তিন বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমিরুল এক মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই আমিরুল ও তার পরিবার চান্দিনার বাবার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল।
নির্যাতনের শিকার চান্দিনা খাতুন জানান, বুধবার রাতে তুচ্ছ মোবাইল ব্যবহারের অজুহাতে তার স্বামী তাকে গালিগালাজ ও মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে তাকে জাপটে ধরে কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়। এরপর তাকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত দোকান ঘরে সারারাত আটকে রাখা হয়। পরদিন প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় বাবার বাড়িতে খবর দিলে স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চান্দিনার বাবা মাজেদুল মন্ডল বলেন, “জামাই বিদেশ যাওয়ার সময় আমরা ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এখন আবার টাকা চাচ্ছে। টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়ের ওপর এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালানো হয়েছে।”
তবে অভিযুক্ত আমিরুলের বাবা মিন্টু চৌধুরী নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেও যৌতুকের দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ছেলের অনুপস্থিতিতে পুত্রবধূ পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল, যা জানতে পেরে তার ছেলে ক্ষোভে চুল কেটে দিয়েছে। যদিও ভুক্তভোগীর পরিবার এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম জানান, গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments