ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে এবার নতুন মোড় নিয়েছে ‘মিডিয়া যুদ্ধ’। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে দুই দেশের সংবাদমাধ্যম এখন মুখোমুখি অবস্থানে। এক পক্ষ এই সম্ভাবনাকে উসকে দিচ্ছে, তো অন্য পক্ষ একে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ হিসেবে উড়িয়ে দিচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সূত্রে নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। তাদের এই সন্দেহের পেছনে মূলত পাঁচটি পরোক্ষ যুক্তি হাজির করা হয়েছে:
১. গত তিন দিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও বার্তা নেই এবং চার দিন ধরে কোনো নতুন ছবি প্রকাশিত হয়নি।
২. সাধারণত নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করা হলেও বর্তমানে কেবল লিখিত বিবৃতি আসছে।
৩. গত ৮ মার্চ থেকে নেতানিয়াহুর বাসভবনের নিরাপত্তা এবং ড্রোন বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে বাড়ানো হয়েছে।
৪. মার্কিন প্রতিনিধি জারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল হওয়া।
৫. ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপের যে লিপি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে সুনির্দিষ্ট তারিখের উল্লেখ নেই।
তবে তাসনিম নিউজ এটাও স্বীকার করেছে যে, দাপ্তরিকভাবে এই জল্পনার কোনো সত্যতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম পোস্ট’ এই খবরকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, এটি যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের ছড়িয়ে দেওয়া মনস্তাত্ত্বিক অপপ্রচার। তাদের পাল্টা যুক্তিগুলো হলো:
১. গত ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নেতানিয়াহুর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য সংবলিত বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।
২. গত ৬ মার্চ তিনি বিয়ারশেভায় একটি হামলাস্থল পরিদর্শন করেছেন, যার স্বাধীন প্রমাণ রয়েছে।
৩. ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর সঙ্গে তার ফোনালাপের তথ্যটি এলিসি প্রাসাদও নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের বরাত দিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের হামলায় নেতানিয়াহুর বাসভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তার ভাই আইডো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওটিতে ব্যবহৃত রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘আরটি’-র লোগো এবং এর অবস্থান সন্দেহজনক। মূল আরটি ওয়েবসাইটের ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর লোগো ও ফরমেটে অসামঞ্জস্য রয়েছে, যা ভিডিওটিকে কারসাজি করা বা ‘ফেক’ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমানে প্রথম সারির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই গুঞ্জন এড়িয়ে চললেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। তবে দুই দেশের মিডিয়া যুদ্ধের এই ডামাডোলে নেতানিয়াহুর প্রকৃত অবস্থা নিয়ে এখনও এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments