রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর সাতারকুল এলাকায় আবারও ভূমিদস্যুতা ও অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও স্বদেশ প্রপার্টিজের এমডি ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভূমি মালিক ও বাসিন্দারা অভিযোগ, তিনি বিএনপির প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পূর্বের মতোই জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শনিবার (১৪ মার্চ) সাতারকুলের সাধারণ ভূমি মালিকরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, এম এ কাইয়ুমের নির্দেশে ঢাকা-১১ আসনের ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের সাতারকুল, বেরাইদ, ফকিরখালী পুরো এলাকা কাটা তারের বেড়া দিয়ে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ড্রেজার পাইপের মাধ্যমে অন্যের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে বালি ফেলে অবৈধভাবে ভরাট করার চেষ্টা চলছে। ফলে স্থানীয়রা নিজস্ব জমিতে উন্নয়ন বা নির্মাণ কাজ করতে পারছেন না। প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী হামলা, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এসব অবৈধ কার্যক্রম আরও তীব্রতর হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু জমি দখলের বিষয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা, অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।” তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যদি স্বদেশ-সানভেলী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জমি ভরাট, কাঁটাতারের বেড়া, অবৈধ পিলার স্থাপন, সাইনবোর্ড লাগানোসহ সব অবৈধ কাজ অবিলম্বে বন্ধ না করা হয়, তাহলে পরবর্তী প্রতিবাদ কর্মসূচি জাতীয় প্রেস ক্লাব, রাজউক, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে পালন করা হবে। ভুক্তভোগীরা মনে করেন, কাইয়ুম বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।
এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইতালীয় নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যা মামলাসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ২০১৬ সালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যেখানে বলা হয়েছে যে তার পরিকল্পনা ও অর্থায়নে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া জমি দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার নাম বারবার উঠেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতিরোধ্য ভূমিখেকো হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে দেখা যায়, সাতারকুল এলাকায় কাইয়ুমের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শতশত মানুষ এবং শতাধিক পরিবার এসব দখলের শিকার হয়েছেন। হাউজিং প্রকল্পের আড়ালে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ভূমি মালিকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, রাজউক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক, যাতে সাধারণ মানুষের জমি ও জীবনযাত্রা রক্ষা পায়।
এ বিষয়ে ড. এম এ কাইয়ুমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




Comments